
মুসলিম ট্রেডাররা প্রতিদিন একটি কঠিন মানসিক দ্বন্দ্বের মুখোমুখি হন, ফরেক্স ট্রেডিং কি হালাল নাকি হারাম? এই প্রশ্নের কোনো এক বাক্যের সহজ উত্তর নেই। আপনি কীভাবে ট্রেড করছেন, ব্রোকার কীভাবে লেনদেন সম্পন্ন করছে এবং আপনার উদ্দেশ্য কী?এই সবকিছুর ওপর নির্ভর করে এর বৈধতা।
Teachers.gov.bd এর একটি গবেষণাপত্র অনুযায়ী, ফরেক্স ট্রেডিং শরীয়াহর মূলনীতি মেনে করা সম্ভব। কিন্তু সাধারণ পদ্ধতিতে (Standard Account) ট্রেড করলে তা হারামের পর্যায়ে চলে যায়। এই দীর্ঘ ও বিস্তারিত নিবন্ধে আমরা ইসলামের দৃষ্টিতে ফরেক্সের খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করব। আমরা জানব রিবা (সুদ), ঘরর (অনিশ্চয়তা) এবং ময়সির (জুয়া) থেকে কীভাবে মুক্ত থেকে হালালভাবে ট্রেডিং ক্যারিয়ার গড়া যায়।
ইসলামে মুদ্রা কেনাবেচার মূল নিয়ম: শরীয়াহর ভিত্তি
ইসলামে মুদ্রা বিনিময়ের একটি বিশেষ পরিভাষা আছে, যাকে বলা হয় ‘সারফ’ (Sarf)। এটি সাধারণ পণ্য কেনাবেচার চেয়ে অনেক বেশি কঠোর নিয়মের অধীন। At-Tahreek.com এর একটি ফতোয়া অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।
হাদিসে বলা হয়েছে: “সোনার বদলে সোনা এবং রুপার বদলে রুপা সমান সমান ও হাতে-হাতে (নগদ) হতে হবে। যদি ভিন্ন ভিন্ন জাতের হয় (যেমন সোনার বদলে রুপা), তবে যেভাবে ইচ্ছা বিক্রি করো, কিন্তু তা অবশ্যই নগদ-নগদ হতে হবে।” (সহীহ মুসলিম)
আধুনিক যুগে কাগজের মুদ্রা (USD, EUR, BDT) সোনা-রুপার মতোই মূল্যস্থাপক হিসেবে কাজ করে। তাই ফরেক্স মার্কেটে কারেন্সি পেয়ার কেনাবেচার ক্ষেত্রেও ‘সারফ’ এর এই নীতি প্রযোজ্য।
হালাল বনাম হারাম লেনদেন: মূল পার্থক্য

-
- <liaria-level=”1″>
স্পট ট্রেডিং (Spot Trading): এটি হলো তাৎক্ষণিক লেনদেন। যখন আপনি একটি কারেন্সি কেনেন বা বিক্রি করেন, তখন সেকেন্ডের মধ্যে ডিজিটালভাবে মালিকানা হস্তান্তর হয়। বাংলাদেশে ব্যাংকের মাধ্যমে ডলার এনডোর্সমেন্ট বা মানি এক্সচেঞ্জারে মুদ্রা বিনিময় যেমন হালাল, ঠিক তেমনি ফরেক্সের স্পট ট্রেডিং এই নীতি মেনে চললে তা হালাল।
<liaria-level=”1″>ফরওয়ার্ড বা ফিউচার ট্রেড (Forward/Futures): এখানে লেনদেন হয় ভবিষ্যতের কোনো তারিখে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি আজ USD/EUR কিনলেন, কিন্তু এর সেটেলমেন্ট বা পেমেন্ট হবে ২-৪ দিন পর। এটি ‘রিবান-আস-সামা’ বা সময়ভিত্তিক সুদ তৈরি করে এবং শরীয়াহর ‘হাতে-হাতে’ নীতি ভঙ্গ করে। তাই ফিউচার ট্রেডিং কি হালাল—এই প্রশ্নের উত্তর হলো, না, এটি হারাম।
টিপ: আপনার ব্রোকার T+0 বা তাৎক্ষণিক সেটেলমেন্ট নিশ্চিত করে কিনা তা জেনে নিন। ইসলামিক ফরেক্স অ্যাকাউন্টগুলো সাধারণত এই নীতি মেনেই ডিজাইন করা হয়।
ফরেক্সে হারামের তিনটি প্রধান উপাদান: যা আপনাকে এড়াতে হবে
ফরেক্স ট্রেডিং হালাল করতে হলে আপনাকে তিনটি প্রধান ইসলামিক নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা রাখতে হবে। এগুলো হলো রিবা (সুদ), ঘরর (অনিশ্চয়তা) এবং ময়সির (জুয়া)।

১. রিবা বা সুদের সমস্যা
ফরেক্স ট্রেডিংয়ের সবচেয়ে বড় বাধা হলো রিবা। কুরআনে আল্লাহ স্পষ্টভাবে বলেছেন, “আল্লাহ সুদকে ধ্বংস করেন এবং দানকে বৃদ্ধি করেন।” (সূরা বাকারা: ২৭৬)।
Teachers.gov.bd এর গবেষণা অনুযায়ী, সাধারণ ফরেক্স অ্যাকাউন্টে ‘সোয়াপ ফি’ (Swap Fee) বা ওভারনাইট চার্জ থাকে। আপনি যদি কোনো পজিশন ২৪ ঘণ্টার বেশি খোলা রাখেন, তবে ব্রোকার আপনাকে সুদ দেবে অথবা আপনার থেকে সুদ নেবে। এটি নির্ভর করে দুটি দেশের মুদ্রার সুদের হারের পার্থক্যের ওপর। এই সোয়াপ ফি সরাসরি রিবা বা সুদ, যা সম্পূর্ণ হারাম।
২. ঘরর বা অতিরিক্ত অনিশ্চয়তা
ঘরর মানে হলো চুক্তিতে অস্পষ্টতা বা প্রতারণার সুযোগ থাকা। ফরেক্সে লেভারেজ কি ইসলামে জায়েজ, এটি একটি বড় বিতর্কের বিষয়। যখন আপনি নিজের ১ ডলার দিয়ে ব্রোকারের ৫০০ ডলার ব্যবহার করে ট্রেড করেন (১:৫০০ লিভারেজ), তখন সেখানে ঘরর সৃষ্টি হয়। এটি আপনাকে সামর্থ্যের বাইরে ঝুঁকি নিতে প্ররোচিত করে এবং মার্জিন কলের মাধ্যমে সব হারানোর সম্ভাবনা তৈরি করে। Facebook এর একটি জনপ্রিয় ইসলামিক ফাইন্যান্স গ্রুপে আলোচনা হয়েছে যে, স্পেকুলেটিভ ট্রেডিং যেখানে কোনো বাস্তব সম্পদ বিনিময় হয় না, তা ঘররপূর্ণ।
৩. ময়সির বা জুয়ার ঝুঁকি
ফরেক্স কি জুয়া নাকি ব্যবসা? এটি নির্ভর করে আপনার পদ্ধতির ওপর। ময়সির হলো ভাগ্যনির্ভর লেনদেন। কুরআনে বলা হয়েছে, “জুয়া এবং মদ শয়তানের কাজ। এগুলো থেকে দূরে থাকো।” (সূরা মায়িদা: ৯০)।
Techinfoai.com এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৮০% রিটেইল ট্রেডার লস করেন কারণ তারা ফরেক্সকে জুয়ার মতো ব্যবহার করেন। কোনো বিশ্লেষণ ছাড়া নিউজের সময় ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে বড় লট নেওয়া স্পষ্টতই জুয়া।
ইসলামিক অ্যাকাউন্ট: রিবামুক্ত হালাল সমাধান
উপরের তিনটি সমস্যা, বিশেষ করে রিবাকে দূর করার জন্য ব্রোকাররা ইসলামিক ফরেক্স অ্যাকাউন্ট বা সোয়াপ-ফ্রি অ্যাকাউন্টের সুবিধা নিয়ে এসেছে।
ইসলামিক অ্যাকাউন্টের শর্তাবলী ও সুবিধা
ইসলামিক অ্যাকাউন্টের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এতে কোনো সোয়াপ ফি বা ওভারনাইট চার্জ থাকে না। এটি AAOIFI (Accounting and Auditing Organization for Islamic Financial Institutions) এর স্ট্যান্ডার্ড মেনে তৈরি করা হয়।
-
- <liaria-level=”1″>
সুদবিহীন: পজিশন যত দিনই হোল্ড করুন না কেন, কোনো সুদ দেওয়া-নেওয়া হবে না।
<liaria-level=”1″>অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ফি: সুদের পরিবর্তে ব্রোকার একটি ফিক্সড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ফি চার্জ করতে পারে, যা শরীয়াহ-সম্মত সেবা চার্জ হিসেবে গণ্য।
<liaria-level=”1″>সীমিত লিভারেজ: অনেক ইসলামিক অ্যাকাউন্টে লিভারেজ সীমিত রাখা হয় (যেমন ১:৩০) যাতে ঘরর কমানো যায়।
কীভাবে খুলবেন: ব্রোকারে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ‘Swap-Free’ অপশনটি নির্বাচন করুন অথবা সাপোর্টে যোগাযোগ করে আপনার মুসলিম পরিচয় প্রমাণ (যেমন NID বা পাসপোর্ট) জমা দিন।
গুরুত্বপূর্ণ: ইসলামিক অ্যাকাউন্ট শুধুমাত্র রিবা সমস্যার সমাধান করে। ঘরর এবং ময়সির এড়াতে আপনাকে নিজের দক্ষতা বাড়াতে হবে।
জুয়া নাকি ব্যবসা: পার্থক্য বুঝুন
অনেকে মনে করেন ফরেক্স মানেই জুয়া। এটি একটি ভুল ধারণা। ইসলামিক দৃষ্টিতে একটি লেনদেন কখন ব্যবসা আর কখন জুয়া হয়, তা বোঝা জরুরি।
কখন ফরেক্স জুয়া হয়ে যায় (হারাম)
যখন আপনি কোনো জ্ঞান বা বিশ্লেষণ ছাড়াই ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে ট্রেড করেন, তখন তা জুয়া। ময়সিরে দুই পক্ষ থাকে, একজন লাভ করে, অন্যজন হারায়। ফরেক্সে ব্রোকার যখন আপনার বিপরীতে ট্রেড করে (B-Book Model), তখন এটি জুয়ার মতো আচরণ করতে পারে। অন্ধভাবে সিগন্যাল ফলো করা বা নিউজের আগে বাজি ধরা জুয়ার শামিল।
কখন ফরেক্স ব্যবসা হয় (হালাল)
Teachers.gov.bd এর মতে, তিনটি শর্তে ফরেক্সকে ব্যবসা বলা যেতে পারে:
১. গবেষণা-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত: টেকনিক্যাল ও ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিস করে ট্রেড নেওয়া।
২. ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা: স্টপ লস ব্যবহার করা এবং মূলধন সুরক্ষার পরিকল্পনা থাকা।
৩. মালিকানা স্থানান্তর: স্পট ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে মুদ্রার মালিকানা বুঝে নেওয়া (ডিজিটালভাবে)।
ইসলাম সৎ ব্যবসাকে উৎসাহিত করে। জুয়ায় দক্ষতা লাগে না, কিন্তু ব্যবসায় দক্ষতা লাগে। একজন সফল ট্রেডার ৫০% এর বেশি উইন রেট পান তার মেধা ও পরিশ্রমের কারণে।
প্রো টিপ: ডেমো অ্যাকাউন্টে অন্তত ৩ মাস প্র্যাকটিস করুন। যখন দেখবেন আপনি জুয়া না খেলে লজিক দিয়ে প্রফিট করছেন, তখনই রিয়েল ট্রেডিং শুরু করুন।
আলেমদের মতামত: কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
ফরেক্স ট্রেডিং কি হালাল, এ নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে। বিভিন্ন মাযহাব এবং চিন্তাধারার আলেমরা ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেন।
ডা. জাকির নাইক ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি
YouTube এ ডা. জাকির নাইকের একটি বিখ্যাত ফতোয়া অনুযায়ী, সোয়াপ-ফ্রি স্পট ট্রেডিং হালাল হতে পারে যদি তাতে স্পেকুলেশন বা জুয়া না থাকে। তিনি বলেন, মুদ্রা বিনিময় প্রাচীনকাল থেকেই হালাল। সমস্যা তৈরি হয় যখন এতে সুদ ও ফিউচার কন্ট্রাক্ট যুক্ত হয়। তার মতে, তাৎক্ষণিক লেনদেন ও ইসলামিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার জরুরি।
মুফতি তাকি উসমানি ও হানাফি মাযহাব
বিশ্বখ্যাত ইসলামিক অর্থনীতিবিদ মুফতি তাকি উসমানি এবং দারুল উলুম করাচির মতে, ফিউচার ট্রেড সম্পূর্ণ হারাম। স্পট ট্রেডের ক্ষেত্রেও তারা অনেক কঠোর শর্ত আরোপ করেন, যা বর্তমান অনলাইন ফরেক্স মার্কেটে পালন করা কঠিন।
হানাফি মাযহাবে ফরেক্স কি জায়েজ? এই প্রশ্নের উত্তরে অনেক দেওবন্দী আলেম সম্পূর্ণ ফরেক্সকে হারাম বলেন কারণ এতে ‘কবজা’ বা মালিকানা বুঝে পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট নয়।
AAOIFI ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড
অন্যদিকে, AAOIFI এবং IFSB এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ইসলামিক ফরেক্স অ্যাকাউন্টের কাঠামো অনুমোদন করেছে। মালয়েশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের অনেক আলেম এই মানদণ্ড অনুসরণ করে ফরেক্সকে শর্তসাপেক্ষে জায়েজ বলেন।
পরামর্শ: আপনি যে মাযহাব বা আলেমকে অনুসরণ করেন, তাদের ফতোয়া জানুন। আপনার এলাকার বিশ্বস্ত মুফতির কাছে আপনার ট্রেডিং পদ্ধতি ব্যাখ্যা করে তার মতামত নিন।
হালাল ফরেক্স ট্রেডিং: ৫টি জরুরি টিপস
আপনি যদি সিদ্ধান্ত নেন যে শরীয়াহ মেনে ট্রেড করবেন, তবে নিচের ৫টি টিপস আপনাকে হালাল পথে থাকতে সাহায্য করবে।

১. সোয়াপ-ফ্রি অ্যাকাউন্ট বেছে নিন
এটি প্রথম ও আবশ্যিক শর্ত। Exness, IC Markets বা FP Markets এর মতো ব্রোকারে ইসলামিক অ্যাকাউন্ট খুলুন। নিশ্চিত হোন যে কোনো পরিস্থিতিতেই আপনার অ্যাকাউন্টে সোয়াপ চার্জ করা হবে না। প্রয়োজনে সাপোর্টের সাথে কথা বলে লিখিত নিশ্চয়তা নিন।
২. স্পট মার্কেট এবং কম লিভারেজ ব্যবহার করুন
শুধুমাত্র স্পট মার্কেটে ট্রেড করুন। ফিউচার, অপশন বা সিএফডি (CFD) এর কিছু কিছু ধরণ এড়িয়ে চলুন। লিভারেজ নিয়ে লোভ করবেন না। ১:৫০০ লিভারেজ দেখতে লোভনীয় হলেও এটি ঘরর তৈরি করে। ইসলামিক স্কলারদের মতে, ১:৩০ বা তার কম লিভারেজ ব্যবহার করা নিরাপদ এবং এটি আপনাকে অতিরিক্ত ঝুঁকি থেকে বাঁচায়।
৩. টেকনিক্যাল ও ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিস শিখুন
জুয়া এড়ানোর একমাত্র উপায় হলো দক্ষতা অর্জন। চার্ট প্যাটার্ন, সাপোর্ট-রেজিস্ট্যান্স এবং ইন্ডিকেটর (RSI, MACD) ব্যবহার শিখুন। অর্থনৈতিক নিউজ (GDP, সুদের হার) কীভাবে মার্কেটকে প্রভাবিত করে তা বুঝুন। যখন আপনি লজিক দিয়ে ট্রেড করবেন, তখন তা আর জুয়া থাকবে না, ব্যবসায় পরিণত হবে।
৪. শরীয়াহ-সার্টিফাইড ব্রোকার চয়ন করুন
যেকোনো ব্রোকারে ট্রেড করবেন না। ব্রোকারের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখুন তাদের কোনো শরীয়াহ বোর্ড আছে কিনা। FP Markets এর মতো কিছু ব্রোকার দাবি করে যে তারা শরীয়াহ-সম্মত। তাদের সার্টিফিকেট যাচাই করুন। ব্রোকারটি কোনো reputable রেগুলেটরি বডি (যেমন FCA, ASIC) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত কিনা তা দেখাও জরুরি।
৫. দৈনিক ট্রেড সীমিত রাখুন এবং লোভ নিয়ন্ত্রণ করুন
ঘরর এড়াতে অতিরিক্ত ট্রেডিং (Overtrading) থেকে বিরত থাকুন। দিনে ৫-১০টির বেশি ট্রেড করবেন না। প্রতিটি ট্রেডে স্টপ লস ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক, যা ইসলামে ‘সম্পদ রক্ষা’র নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। লোভ হলো ফরেক্সে সবচেয়ে বড় শত্রু। একটি ভালো ট্রেডের পর দ্বিগুণ লাভের আশায় আরেকটি ভুল ট্রেড করবেন না।
২০২৬ সালের সেরা ইসলামিক ফরেক্স ব্রোকার
হালাল ট্রেডিংয়ের জন্য সঠিক ব্রোকার নির্বাচন করা অর্ধেক যুদ্ধ জয়ের সমান। Brokerchooser.com এবং বিভিন্ন ইউজার রিভিউ বিশ্লেষণ করে আমরা চারটি সেরা ব্রোকারের তালিকা করেছি।
| ব্রোকার | সুবিধা | সীমাবদ্ধতা |
| We Master Trade | ইনস্ট্যান্ট ফান্ডিং, সোয়াপ-ফ্রি অ্যাকাউন্ট, ৯০% প্রফিট, নিজের টাকার ঝুঁকি নেই | পারফরম্যান্স মূল্যায়ন প্রয়োজন |
| Exness | কম স্প্রেড, অটোমেটিক সোয়াপ-ফ্রি, MT5 | অ্যাডমিন ফি প্রযোজ্য হতে পারে |
| IC Markets | শক্তিশালী রেগুলেশন, Raw স্প্রেড অ্যাকাউন্ট | লিভারেজ লিমিট কঠোর |
| FP Markets | শরীয়াহ বোর্ড আছে দাবি করে, দ্রুত এক্সিকিউশন | ডকুমেন্ট যাচাই সময়সাপেক্ষ |
| XM | বাংলা সাপোর্ট, নতুনদের জন্য ভালো, ডেমো ফ্রি | স্প্রেড মাঝেমাঝে বেড়ে যায় |
সিদ্ধান্ত: আপনার পথ নির্ধারণ করুন
এই দীর্ঘ আলোচনার পর একটি বিষয় স্পষ্ট যে, ফরেক্স ট্রেডিং কি হালাল? এর উত্তর আপনার নিয়তের এবং পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল। ইসলাম ব্যবসাকে উৎসাহিত করে কিন্তু রিবা, ঘরর ও ময়সিরকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করে।
আপনি যদি সোয়াপ-ফ্রি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন, স্পট মার্কেটে ট্রেড করেন, লিভারেজ কম রাখেন এবং জুয়া না খেলে দক্ষতার সাথে বিশ্লেষণ করে ট্রেড করেন, তবে অনেক আলেমের মতেই এটি জায়েজ ব্যবসার অন্তর্ভুক্ত হবে। কিন্তু যদি এর কোনো একটি শর্তও ভঙ্গ হয়, তবে তা হারামের দিকে চলে যাবে।
জ্ঞান অর্জন করুন, ধৈর্য ধরুন এবং লোভ এড়িয়ে চলুন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার এবং হালাল রিজিক অন্বেষণের তাওফিক দিন। আমীন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. সোয়াপ ফ্রি (Swap-Free) অ্যাকাউন্ট কি সত্যিই হালাল?
হ্যাঁ, অধিকাংশ আধুনিক আলেমের মতে সোয়াপ ফ্রি অ্যাকাউন্ট হালাল। কারণ এতে রিবা বা সুদের লেনদেন হয় না। সুদের পরিবর্তে ব্রোকার যে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ফি নেয়, তা শরীয়াহ-সম্মত সেবা চার্জ হিসেবে গণ্য করা হয়।
২. ফরেক্স ট্রেডিং কি জুয়ার অন্তর্ভুক্ত?
ফরেক্স তখনই জুয়া হয় যখন আপনি কোনো জ্ঞান বা বিশ্লেষণ ছাড়া শুধুমাত্র ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে ট্রেড করেন। কিন্তু যদি আপনি গবেষণা, অ্যানালাইসিস এবং রিস্ক ম্যানেজমেন্ট করে ট্রেড করেন, তবে এটি একটি ব্যবসা।
৩. মুফতিরা ফরেক্স নিয়ে কি বলেন?
মুফতিদের মধ্যে মতভেদ আছে। একাংশ মনে করেন সব ধরণের ফরেক্স হারাম। তবে অন্য একটি বড় অংশ, বিশেষ করে যারা আধুনিক ইসলামিক ফাইন্যান্স নিয়ে কাজ করেন, তারা বলেন যে শর্তসাপেক্ষে (সোয়াপ-ফ্রি, স্পট ট্রেডিং) এটি জায়েজ।
৪. স্পট ট্রেডিং এবং ফিউচার ট্রেডিংয়ের মধ্যে শরীয়াহর পার্থক্য কি?
স্পট ট্রেডিংয়ে লেনদেন ও মালিকানা হস্তান্তর তাৎক্ষণিকভাবে হয়, যা শরীয়াহর ‘সারফ’ নীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। কিন্তু ফিউচার ট্রেডিংয়ে সেটেলমেন্ট ভবিষ্যতে হয়, যা ‘রিবান-আস-সামা’ বা সময়ভিত্তিক সুদ তৈরি করে, তাই এটি হারাম।
৫. লেভারেজ নিয়ে ট্রেড করা কি জায়েজ?
এটি একটি জটিল বিষয়। কিছু আলেম সীমিত লেভারেজকে (যেমন ১:৩০) জায়েজ বলেন কারণ এটি ব্যবসাকে সহজ করে। অন্যরা মনে করেন যেকোনো ধরণের লেভারেজ ঘরর বা অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করে, তাই তা বর্জনীয়। নিরাপদ থাকার জন্য লিভারেজ যত কম ব্যবহার করা যায় ততই ভালো।
৬. সোয়াপ ছাড়া ট্রেডিং কিভাবে করব?
আপনাকে এমন একটি ব্রোকার খুঁজে বের করতে হবে যারা ইসলামিক বা সোয়াপ-ফ্রি অ্যাকাউন্ট অফার করে। অ্যাকাউন্ট খোলার সময় বা পরে সাপোর্টে কথা বলে এই সুবিধাটি চালু করে নিতে হবে। আমাদের তালিকায় থাকা ব্রোকারগুলো এই সুবিধা দেয়।


