বাঁধাধরা চাকরির পাশাপাশি একটি বাড়তি আয়ের সুযোগ।
অথবা ছাত্রজীবনে পড়াশোনার অতিরিক্ত সময়টি ভেস্তে না দিয়ে সম্ভাবনাময় দক্ষতা অর্জনে ব্যয়।
এমন চিন্তাধারা থেকেই অধিকাংশ মানুষ ট্রেডিং এ আসেন।
তবে শীঘ্রই, ট্রেডিং জগতের সীমাহীন পরিসর, সুযোগ, এবং স্বাধীনতা উপলব্ধি করে অনলাইনের এই মুক্ত বাজারটিকে তারা বেছে নেন নিজেদের একমাত্র কর্মক্ষেত্র হিসেবে।
২৪ ঘন্টা খোলা এই বাজারে, স্বল্পপুঁজিতে অথবা সম্পূর্ণ পুঁজিহীন বিনিয়োগ সম্ভব। কৌশল, দক্ষতা, আর অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণ ঘটাতে পারলে উপযুক্ত একটি ট্রেডই ঘুড়িয়ে দিতে পারে জীবনের মোড়
তবে আছে অনভিজ্ঞ এবং অপেশাদার পদক্ষেপে বিপুল অর্থ লোকসানের ঝুঁকিও। তাই, জীবনের প্রথম অর্ডার (Trade Order) টি স্থাপন করার আগে খুঁটে জেনে নিতে হবে ট্রেডিং কি এবং এই জগতের অলিগলি।
আর সেখানেই আপনাকে সাহায্য করবে WeMasterTrade এর এই ব্লগটি। আপনি জানবেনঃ
- ট্রেডিং মানে কি
- ট্রেডিং এর যত প্রকারভেদ
- ট্রেডিং শুরু করার নিয়ম
- ট্রেডিং এ সফল হবার উপায়
নতুনদের জন্যে ব্লগটি দিবে একটি কার্যকরী রোডম্যাপ। চলুন শুরু করা যাক।
ট্রেডিং কাকে বলে?

ট্রেডিং অনেকটা পণ্য কেনা বেচার মতই। তবে এখানে আপনি পণ্যটি সরাসরি হাতে পান না। বরং পণ্যটির মার্কেট প্রাইসের ওঠানামা পর্যবেক্ষণ করেন, নিকট অথবা সুদূর ভবিষ্যতে দাম কেমন হতে পারে বোঝার চেষ্টা করেন, লাভজনক সুযোগ তৈরি হলে, অর্থাৎ কম দামে কিনে বেশী দামে বিক্রি করার সুযোগ বুঝে আপনি সে অনুযায়ী অর্থ বিনিময় করে থাকেন। বিনিময়ের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিই হয়ে থাকে একটি ভার্চুয়াল বা অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে।
ট্রেডিং সম্পর্কে আরো পরিষ্কার ধারণা পেতে নিম্নোক্ত বিষগুলো জানতে হবেঃ
ট্রেডিং প্লাটফর্ম/ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম কি?
ট্রেডিং মার্কেটে প্রবেশ করতে হলে আপনাকে একটি প্লাটফর্মের মাধ্যমেই করতে হবে।
সহজে ট্রেডিং প্লাটফর্মকে আপনি একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট হিসেবে ভাবতে পারেন। এখানে সকল ট্রেডযোগ্য পণ্যগুলোর তালিকা, বাস্তব বাজারে তাদের বর্তমান দাম উল্লেখ করা থাকে, এবং তাৎক্ষনিকভাবে কেনাবেচা করার উপায় থাকে।
আধুনিক প্লাটফর্মগুলো দাম পর্যবেক্ষণ, অতীতে দামের ওঠানামা কেমন ছিল, এবং এমনকি ভবিষ্যতে কেমন হতে পারে সেসব প্রেডিক্ট করার মত সাহায্যকারী টুলসে সজ্জিত থাকে।
বাজারে অনেক প্লাটফর্ম আছে। জনপ্রিয় প্লাটফর্মগুলোর মধ্যে আপনি মেটাট্রেডার-৪, মেটাট্রেডার-৫ এর নাম হয়ত শুনে থাকবেন।
ট্রেডিং এসেট কি?
ট্রেডিং এ আপনি যে পণ্য বা সেবাগুলি কেনাবেচা করেন সেগুলিই ট্রেডিং এসেট। বিভিন্ন দেশের কারেন্সি থেকে শুরু করে বাজারজাত পণ্য যেমন, সোনা, তেল, এছাড়াও কোম্পানি শেয়ার, এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি এসবই ট্রেডিং এসেট।
ব্রোকার বা ব্রোকারেজ ফার্ম কি?
ব্রোকারেজ ফার্ম বা ব্রোকার আপনার ট্রেডিং জগতের প্রবেশদ্বার। মার্কেট এর সাথে আপনার ইন্টারেকশানগুলো মূলতঃ একজন ব্রোকারের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। সরাসরি আপনার ট্রেড এবং সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ না করলেও, ব্রোকারের প্রকারভেদে ট্রেড প্রতি আপনার ব্যয়, নিরাপত্তা, মার্জিন স্কোপ, এবং অভিজ্ঞতা ব্যতিক্রম হবে।
ট্রেডিং কিভাবে কাজ করে?
ট্রেডিং এর মৌলিক কর্মপদ্ধতি অনেকটাই সহজ। ধাপহিসেবে বর্ণনা করলে, ট্রেডিং হচ্ছেঃ
এসেট/মার্কেট নির্বাচন
কারেন্সি, শেয়ার, না কি কমোডিটি? কোন পণ্যটিতে আপনি স্বচ্ছন্দ তা প্রথমেই বেছে নিতে হয়।
ব্রোকার নির্বাচন
পছন্দসই এসেটের সবচাইতে বিশ্বস্ত এবং রেপুটেড ব্রোকার খুঁজে নিতে হবে। এক্ষেত্রে ব্রোকারের রিভিউ এবং রেগুলেটরি সংস্থাগুলো খতিয়ে দেখা জরুরি।
প্রাইস মুভমেন্ট এনালিসিস
অসিলেটর সহ বিভিন্ন রিয়েল টাইম এবং প্রেডিক্টিভে প্রাইস ইন্ডিকেটর রিড করে শর্ট টার্ম এবং লং টার্ম এ প্রাইসের গতিবিধি অনুধাবন করতে হয়।
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা
স্টপ লস, টারগেট প্রফিট, রেজিস্ট্যান্স, ব্রেকিং পয়েন্ট ইত্যাদি টুল এবং ধারণা ব্যাবহার করে একটি সর্বনিম্ন ঝুঁকিতে সর্বোচ্চ লাভের অর্ডার প্লেস করতে হয়।
এন্ট্রি এবং এক্সিট
এক্সিট পয়েন্ট এ এসেটের প্রাইস থেকে এন্ট্রি পয়েন্টের প্রাইসের ব্যবধানই হচ্ছে আপনার লাভ বা লোকসানের পরিমাণ। মোদ্দা কথায়, আপনার ট্রেডার হিসেবে আপনার পারফর্মেন্স পুরোটাই নির্ভর করবে কতটা বুদ্ধি, জ্ঞান এবং প্রজ্ঞার সাথে আপনি এই দুটি পয়েন্ট নির্ধারণ করতে পারবেন তার উপর।
ট্রেডিং কত প্রকার ও কি কি? আপনার জন্য কোনটি উপযুক্ত?

ট্রেডিং এসেট এর উপর নির্ভর করে ট্রেডিং মার্কেট ভিন্ন হয়ে থাকে। যেমনঃ
ফরেক্স মার্কেটঃ ফরেইন কারেন্সি মার্কেট। এক কারেন্সির বিনিময়ে আপনি অন্য একটি কারেন্সি কেনাবেচা করেন।
কমোডিটি মার্কেটঃ বাজারজাত পণ্যের মার্কেট। পণ্যের দামের ওঠানামা মার্কেট নিয়ন্ত্রণ করে।
স্টক মার্কেটঃ কোম্পানি শেয়ার মার্কেট যেখানে পাব্লিক কোম্পানিগুলো তাদের শেয়ার বিক্রি করে। শেয়ার প্রাইসের ওঠানামার উপরে ট্রেড করতে হয়।
ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেটঃ ক্রিপ্টো কয়েন কেনাবেচা করার মার্কেট।
তবে মার্কেট যেটাই হোক, ট্রেডিং এর ফান্ডামেন্টাল বা প্রাথমিক ধারণাগুলো সবগুলির ক্ষেত্রেই প্রায় একই। তবে ট্রেডিং এর মূল প্রকারভেদ এর স্থায়িত্বের উপর নির্ভর করে। এখানে একটি খসরা ধারণা দেয়া হলোঃ
ইন্ট্রা-ডে ট্রেডিং
যখন আপনি একটি অর্ডার এক দিনের মধ্যেই ক্লিয়ার করেন, তার মানে কেনাবেচার সবগুলো ধাপ যদি একই দিনের মধ্যে হয়ে থাকে তো সেটি ইন্ট্রা-ডে ট্রেডিং।
স্বল্পমেয়াদী ট্রেডিং অপশানগুলোর মধ্যে ইন্ট্রা-ডে ট্রেডিং বেশী গৃহীত। বিশ্বব্যাপী ব্রোকারেজ এবং পপ ট্রেডিং ফার্মগুলো ট্রেডারদের উৎসাহিত করেন ইন্ট্রা-ডে ট্রেডিং এর ব্যাপারে।
টাইমলাইন সংক্ষিপ্ত বিধায় এখানে ঝুঁকি এবং পুরষ্কার দুটিই তুলনামূলকভাবে কম। তবে লিভারেজ ট্রেডিং বা মারজিন ট্রেডিং করে রিওয়ার্ড স্কেল করা যায়।
স্ক্যাল্পিং
তড়িৎ এবং তাৎক্ষণিক, স্ক্যাল্পিং একটি কৌশল যেখানে ট্রেডগুলির স্থায়িত্বকাল কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট। প্রাইসের ক্ষুদাতিক্ষুদ্র তারতম্য থেকে প্রফিট করা হয়।
স্ক্যাল্পিংএ মূলতঃ প্রাইসের উপর বাহ্যিক ফ্যাক্টরগুলোর প্রভাব এর চাইতে রিয়েল টাইম এবং ইমিডিয়েট অতীতে সেটি কোন প্যাটার্ন অনুসরণ বা তৈরি করছে কি না সেটি জানাই বেশী জরুরী। একারণে নিরবচ্ছিন্ন এবং নিরলসভাবে প্রাইস এনালাইসিস করে যেতে হয় এবং ট্রেডিং এর সময়ে পূর্ণ মনোনিবেশ করা প্রয়োজন হয়।
স্যুয়িং ট্রেডিং
মধ্যম মেয়াদী ট্রেড, যা সাধারণতঃ কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত ধরে রাখা হয়। এ ধরণের ট্রেডে টেকনিক্যাল এবং ফান্ডামেন্টাল ফ্যক্টরসগুলির প্রভাব সবচেয়ে বেশী। তাই বাজারে দ্রুত সময়ের মধ্যে যেসব পরিবর্তন হতে পারে, সেগুলো ট্রেডারকে সময় নিয়ে পর্যালোচনা করে বায়িং ডিসিশান নিতে হয়।
পজিশান ট্রেডিং
পজিশান ট্রেডিং সর্বাপেক্ষা দীর্ঘমেয়াদী। এটি কয়েস সপ্তাহ, মাস, এমনকি কয়েক বছরও গড়াতে পারে। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এই কৌশলে সহজ, শুধুমাত্র একটি স্টেবল এসেট খুঁজে নিতে হয়। তবে হাই লিকুইডিটি এবং উচ্চ ডিমান্ডের এসেটগুলি পজিশান ট্রেডিং এর জন্যে সবচাইতে লাভজনক।
ট্রেডিং কিভাবে শিখবেন? নতুনদের জন্য কার্যকরী ধাপসমূহ

ট্রেডিং একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন জগত। আপাতঃ পরিচিত শব্দগুলোও এখানে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করতে পারে। তাই একজন ট্রেডারের জন্যে প্রথমেই প্রচলিত জারগন এবং টার্ম গুলোর সাথে পরিচিত হওয়া আবশ্যক। এমন কিছু টার্ম হলোঃ
বিড (Bid) এবং আস্ক (Ask) প্রাইসঃ
বিড হচ্ছে সর্বোচ্চ যে দামে একটি এসেট কিনতে ইচ্ছুক। যেখানে আস্ক প্রাইস হচ্ছে সেলারের সর্বনিম্ন ডিমান্ড।
স্প্রেড (Spread):
বিড এবং আস্ক প্রাইসের মধ্যকার ব্যবধান। এটি ব্রোকারের পারশ্রমিক ধরা হয়।
পিপ (Pip):
প্রাইস ওঠানামা পরিমাপ করার ন্যূনতম একক।
স্টপ লস (Stop Loss):
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার একটি টুল, যেটি একজন ট্রেডার আগে থেকেই নির্দিষ্ট করে দেন। প্রাইস এই মাত্রায় পৌছালে ট্রেডটি অটোমেটিক ক্লোজ হয়ে যায়।
বুলিশ মার্কেট (Bullish/Bull):
আপট্রেন্ডও বলা হয়। এটি দিয়ে প্রাইসের ঊর্ধ্বমূখী মুভমেন্ট বোঝায়।
বেয়ার মার্কেট (Bearish/Bear):
ডাউনট্রেন্ড। প্রাইসের পতন নির্দেশ করে।
লিভারেজ (Leverage):
অর্ডার সাইজের থেকেও কয়েকগুণ বেশী রিটার্ন পাওয়ার কৌশল।
এমন আরো কিছু টার্ম আছে। ট্রেডিং শেখার প্রথমধাপে এগুলোর পূর্ণ অর্থ এবং ব্যবহারবিধি জেনে নেয়া উচিৎ।
এরপরের ধাপগুলো ব্যবহারিক। অর্থাৎ প্রাক্টিক্যালি হাতে কলমে মাধ্যমে শিখতে হবে। সেজন্যে প্রয়োজনঃ
ব্রোকার প্লাটফর্ম সাইন আপ
সব প্লাটফর্মই ট্রেডারদের ফ্রি একাউন্ট এবং টিউটরিয়াল এনভায়রনমেন্ট অফার করে। যে কোন একটিতে সাইন আপ করে প্লাটফর্মের বিভিন্ন মডিউলগুলো কে জানা, রিয়েল মার্কেট অবজারভেশান, এবং সিম্যুলেটেড ট্রেডিং শুরু করতে হবে।
নিয়মিত অনুশীলন
প্রাইসের উপর গ্লোবাল ইভেন্ট এবং অন্যান্য ফ্যাক্টরগুলি কিভাবে প্রভাব ফেলে, লাভ বা লস এর পর ইমোশনাল ম্যানেজমেন্ট এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলি কিভাবে দ্রুত নিতে হয়, সর্বোপরি, একটি আদর্শ ট্রেডিং মাইন্ডসেট এবং স্কিল গড়ে তুলতে হলে নিয়মিত অনুশীলন করা জরুরি।
মেন্টর বা কোর্স এর সাহায্য
ফিজিক্যালি অথবা অনলাইনে সাকসেসফুল ট্রেডারদের ইন্সট্রাকশানগুলো ফলো করলে নলেজ গ্যাপ দ্রুত কাভার করা যায়।
ব্লগ, বই এবং অন্যায় রিসোর্স
ট্রেডিং একটি শতাব্দী পুরাতন আয়মাধ্যম। বিতর্ক থাকলেও সেগুলোর অধিকাংশই মিথ। ভুল ধারণা এবং প্রাক্টিস থেকে বের হয়ে, প্রফেশানালি ট্রেডিং করতে হলে নিয়মিত আপডেট হবার বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান এক্সপার্টদের লেখা বই, এবং অনলাইন ব্লগ এর মাধ্যমে যে কোন প্রশ্নের সঠিক এবং বিশ্লেষণী উত্তর পাওয়া সম্ভব। জয়েন করুন আমাদের ট্রেডিং অ্যাকাডেমি, এবং শিখে ফেলুন কি করে সহজে ট্রেডিং করা যায় ইন্টারন্যাশ্নাল মার্কেটে।
সফল ট্রেডার হতে গেলে যে বিষয়গুলো অবশ্যই জানতে হবে

একজন সফল ট্রেডারকে প্রথম ট্রেডারসুলভ মাইন্ডসেট গঠন করতে হয়। যেখানে প্রপার প্লানিং, গোল বা অব্জেক্টিভ নির্ধারণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কৌশল আয়ত্তকরণ থেকে শুরু করে পুরাতন ট্রেডগুলি রিভিজিট করে সিদ্ধান্তের গ্যাপ গুলো খুঁজে বের করতে পারা এসবই করতে হয়।
মাইন্ডসেট গঠনের প্রাথমিক ধাপগুলি হচ্ছেঃ
নলেজেবল থাকা
প্রতিনিয়ত মার্কেটে নতুন নতুন ট্রেন্ড পরিলক্ষিত হচ্ছে। দিশা না হারিয়ে সেগুলোকে লাভজনক করতে হলে কৌশলী ট্রেডারদের গাইডেন্স প্রয়োজন। প্রতিদিনই একটি নির্দিষ্ট সময় নলেজ গেদার করার পিছনে ব্যয় করতে হবে।
টেকনিক্যাল এবং ফান্ডামেন্ডাল প্রাইস ফ্যাক্টরস
প্রাইস কেন ওঠানামা করছে সেটা বুঝতে হলে এসব ফ্যাক্টরগুলোর উপর সজাগ নজর রাখতে হয়। বিভিন্ন চার্ট এবং গ্রাফ যেমন, লাইন চার্ট, ক্যান্ডেলস্টিক চার্ট, বার চার্ট ইত্যাদি প্রাইস প্রজেক্টরগুলির পড়তে জানা এবং সেগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে প্যাটার্ন খুঁজে বের করতে পারা ট্রেডার হিসেবে আপনাকে কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।
প্লানিং এবং গোল সেটিং
সময়ের সাথে আপনি অসংখ্য ধরণের ট্রেড এবং সেরা কৌশলগুলির সাথে পরিচিত হবেন। নতুনদের জন্যে এতসব নতুন তথ্য এবং উপদেশের মধ্যে খেই হারিয়ে ফেলার প্রবণতা দেখা যায়। তবে একটি গুছানো প্লান আপনাকে দৈনন্দিন এবং মাসিক এক্সপেক্টেশান অনুযায়ী কৌশল বাছতে এবং প্রয়োগ করতে সাহায্য করবে।
আবেগ নিয়ন্ত্রণ
তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ট্রেডিং জগতে অনেকেই আবেগ উপেক্ষা করে ট্রেড করেন। ফলাফল, অপ্রত্যাশিত এবং একটানা ক্ষতি। একটি বিশাল লাভ বা লস করার পর আবেগ দ্বারা পরিচালিত হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়া নতুনদের জন্যে সাধারণ। এ ব্যাপারে সাহায্য করতে পারে প্রতিটি অর্ডারের আগে সেটিং যুক্তি, জ্ঞান, এবং সতর্কতার সাথে বিশ্লেষণ করা।
দৈনন্দিন রুটিন
স্ক্রিন এর সামনে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা মানসিক, ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক জীবনের জন্যে নেতিবাচক। একজন ট্রেডারকে অবশ্যই একটি পরিষ্কার এবং স্টেবল মানসিক অবস্থায় থাকতে হবে। তার জন্যে ঘুম, হেলদি খাওয়া, এবং কাছের মানুষদের ব্যপারেও উৎসাহী এবং সজাগ দৃষ্টি রেখে একটি ভারসাম্য গঠন করতে হবে।
উপসংহার: ট্রেডিং কি আপনার জন্য সঠিক পথ?
ট্রেডিং হতে পারে আর্থিক সল্ভেন্সি লাভের একটি উপযুক্ত মাধ্যম, তবে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করুন। অল্প পুঁজিতে সীমাহীন লাভের অনন্য এই মাধ্যমের ঝুঁকিটাকেও প্রাধান্য দিতে হবে। অভিজ্ঞ ট্রেডারদের কৌশল এবং সিদ্ধান্তগুলির ফোকাস পয়েন্ট লাভ নির্ভর নয়, বরং ঝুঁকি নির্ভর। আর সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই ট্রেডিং শুরু করার আগে নতুন ট্রেডারদের নিজেকে প্রস্তুত করে নেয়া আবশ্যক। ট্রেডিং কি এবং এর সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সকল বিষয়গুলোতে সময় নিয়ে জ্ঞান অর্জন এবং অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেকে ঝালাই করে নিতে হবে। এখনই শুরু করুন আপনার ট্রেডিং যাত্রা—আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন আরও পরামর্শের জন্য, অথবা সরাসরি ইনস্ট্যান্ট ট্রেডিং শুরু করে অভিজ্ঞতা অর্জন করুন। এভাবে আপনার স্বপ্নের আর্থিক স্বাধীনতা অর্জন করুন সহজে এবং নিরাপদে।


